ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রেডিং কীভাবে হয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স প্রোগ্রামগুলো ৪.০০ স্কেলের লেটার গ্রেডিং পদ্ধতিতে চলে, যা বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতির সাথে মিলে যায়। বেশিরভাগ বিভাগে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু আছে, যেখানে প্রতিটি কোর্সের নির্দিষ্ট ক্রেডিট থাকে। কোর্সের মোট নম্বর, অর্থাৎ ইনকোর্স, মিডটার্ম, অ্যাসাইনমেন্ট ও চূড়ান্ত পরীক্ষার নম্বর মিলিয়ে একটি লেটার গ্রেড ও গ্রেড পয়েন্ট দেওয়া হয়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম অনেকেই জানেন না: কোনো কোর্সের মোট নম্বর ভগ্নাংশে হলে তা পরের পূর্ণ নম্বরে বাড়িয়ে ধরা হয়। যেমন ৭৪.৩ নম্বর হলে তা ৭৫ ধরা হবে, ফলে গ্রেড A- (3.50) এর বদলে A (3.75) হবে। উপরের ক্যালকুলেটর এই নিয়ম নিজেই প্রয়োগ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং টেবিল
| প্রাপ্ত নম্বর | লেটার গ্রেড | গ্রেড পয়েন্ট |
|---|---|---|
| ৮০% বা তার বেশি | A+ | 4.00 |
| ৭৫% থেকে ৮০% এর কম | A | 3.75 |
| ৭০% থেকে ৭৫% এর কম | A- | 3.50 |
| ৬৫% থেকে ৭০% এর কম | B+ | 3.25 |
| ৬০% থেকে ৬৫% এর কম | B | 3.00 |
| ৫৫% থেকে ৬০% এর কম | B- | 2.75 |
| ৫০% থেকে ৫৫% এর কম | C+ | 2.50 |
| ৪৫% থেকে ৫০% এর কম | C | 2.25 |
| ৪০% থেকে ৪৫% এর কম | D | 2.00 |
| ৪০% এর কম | F | 0.00 |
এই টেবিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন অনার্স প্রোগ্রামের বিবরণে দেওয়া আছে, যেমন বি.এস. (অনার্স) পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান। বিজ্ঞান অনুষদের বি.এস. (অনার্স) প্রোগ্রামের লেটার গ্রেডিং নির্দেশিকাতেও একই টেবিল ব্যবহৃত হয়।
GPA ও CGPA কীভাবে বের করবেন: উদাহরণ
GPA = Σ (গ্রেড পয়েন্ট × ক্রেডিট) ÷ Σ নেওয়া ক্রেডিট
ধরুন রাফি প্রথম সেমিস্টারে এই ফলাফল পেয়েছে:
| কোর্স | ক্রেডিট | নম্বর | গ্রেড | ক্রেডিট × পয়েন্ট |
|---|---|---|---|---|
| রসায়ন | 4 | 82 | A+ (4.00) | 16.00 |
| জীববিজ্ঞান | 4 | 74.3 → 75 | A (3.75) | 15.00 |
| পরিসংখ্যান | 3 | 68 | B+ (3.25) | 9.75 |
| ইংরেজি | 2 | 61 | B (3.00) | 6.00 |
| ব্যবহারিক | 3 | 71 | A- (3.50) | 10.50 |
| মোট | 16 | 57.25 |
GPA = 57.25 ÷ 16 = 3.58
CGPA বের করতে এখন পর্যন্ত অর্জিত সব গ্রেড পয়েন্টের যোগফলকে মোট নেওয়া ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করুন। দ্বিতীয় সেমিস্টারে ১৮ ক্রেডিটে GPA 3.40 হলে পয়েন্ট হয় 3.40 × 18 = 61.20, আর CGPA = (57.25 + 61.20) ÷ (16 + 18) = 118.45 ÷ 34 = 3.48। ক্যালকুলেটরের CGPA ট্যাব এই হিসাব নিজেই করে।
ডিগ্রি ও ন্যূনতম CGPA
- উদাহরণ হিসেবে বি.এস. (অনার্স) পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান প্রোগ্রামে ডিগ্রির জন্য কমপক্ষে ১২৮ ক্রেডিট, CGPA 2.50 এবং কোনো F গ্রেড না থাকা দরকার, যা ৪ থেকে ৬ বছরের মধ্যে শেষ করতে হয়।
- ১২৮ এর বেশি ক্রেডিট নিলে চূড়ান্ত CGPA সব নেওয়া ক্রেডিট ধরে হিসাব হয়।
- প্রমোশন ও ডিগ্রির ন্যূনতম CGPA বিভাগ ও অনুষদভেদে আলাদা হতে পারে, তাই নিজের বিভাগের অধ্যাদেশ দেখে নিশ্চিত হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় CGPA থেকে শতাংশ
ইউজিসির অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতিতে CGPA কে শতাংশে রূপান্তরের কোনো সরকারি সূত্র নেই, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-র যে নিয়মাবলি আমরা দেখেছি সেখানেও এমন সূত্র পাইনি। তাই এই ক্যালকুলেটর কোনো আন্দাজি শতাংশ বানায় না।
শতাংশ ট্যাব শুধু দেখায় আপনার CGPA কোন গ্রেড পর্যন্ত পৌঁছায় এবং সেই গ্রেডের নম্বরের সীমা কত। যেমন CGPA 3.40 হলে তা B+ (3.25) পর্যন্ত পৌঁছায়, যার নম্বরের সীমা ৬৫–৬৯%। চাকরি বা বিদেশে ভর্তির ফর্মে শতাংশ চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে অফিশিয়াল পদ্ধতি নিশ্চিত করুন।
DU CGPA: সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে A+ পেতে কত নম্বর লাগে?
৮০% বা তার বেশি নম্বরে A+ পাওয়া যায়, যার গ্রেড পয়েন্ট 4.00। ৭৫% থেকে ৮০% এর কম হলে A (3.75)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাস নম্বর কত?
৪০% থেকে ৪৫% এর কম নম্বরে D গ্রেড (2.00) পাওয়া যায়, যা সর্বনিম্ন পাস গ্রেড। ৪০% এর কম নম্বর F।
আমার নম্বর ৭৪.৩ হলে কোন গ্রেড পাব?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্সের ভগ্নাংশ মোট নম্বর পরের পূর্ণ নম্বরে বাড়িয়ে ধরা হয়, তাই ৭৪.৩ হবে ৭৫, অর্থাৎ A (3.75)।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে CGPA কীভাবে বের করা হয়?
এখন পর্যন্ত অর্জিত সব গ্রেড পয়েন্টের যোগফল (গ্রেড পয়েন্ট × ক্রেডিট) কে মোট নেওয়া ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করলে CGPA পাওয়া যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের CGPA কে শতাংশে কীভাবে রূপান্তর করব?
ইউজিসির অভিন্ন গ্রেডিং পদ্ধতিতে কোনো সরকারি সূত্র নেই। শতাংশ লাগলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে অফিশিয়াল পদ্ধতি নিশ্চিত করুন।
সূত্র
সর্বশেষ যাচাই: ২২ অক্টোবর ২০২৬। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম বদলাতে পারে, তাই আপনার ফলাফল সবসময় নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ অফিশিয়াল নিয়মের সাথে মিলিয়ে নিন। আরও দেখুন: ব্যবহারের শর্তাবলি।